
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৬ তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামের এক বর্ণাঢ্য পরিবার জন্মগ্রহণ করেন এই কবি। তাঁর পিতৃপ্রদত্ব নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার পিতার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। তার দাদার নাম আব্দুল ওহাব মোল্লা যিনি হবিগঞ্জ জেলায় জমিদার ছিলেন।
কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গসংগঠন নানা আয়োজনে পালন করছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
আল্ মাহমুদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন। মূলত তখন থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করেন এবং ষাট দশকেই স্বীকৃতি ও পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেন।
আল্ মাহমুদ সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে ঢাকা আগমন করেন। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলা পত্রিকার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭১ সালে তিনি ভারত গমন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় প্রতিষ্ঠা-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সম্পাদক থাকাকালীন এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং একটা সময় থেকে ইসলামী ভাবধারা তার লেখনীর মধ্যে ব্যপক আকারে ফুটে উঠেছে। আধুনিক বাংলা ভাষাকে ভেঙ্গে চুরে প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।
১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ নামে দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম সোনালি কাবিন। ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ তার কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস উৎকীর্ণ হতে থাকে; এর জন্য তিনি প্রগতিশীলদের সমালোচনার মুখোমুখি হন। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস “কবি ও কোলাহল”।
কবির জীবন দশায় প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, লোক লোকান্তর (১৯৬৩) কালের কলস (১৯৬৬)
সোনালী কাবিন (১৯৭৩) মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬)
আরব্য রজনীর রাজহাঁশ,বখতিয়ারের ঘোড়া
অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,Selected Poems – Al Mahmud (১৯৮১),দিনযাপন,দ্বিতীয় ভাঙ্গন
একটি পাখি লেজ ঝোলা,পাখির কাছে ফুলের কাছে
আল মাহমুদের গল্প,গল্পসমগ্র,প্রেমের গল্প,যেভাবে বেড়ে উঠি, কিশোর সমগ্র,কবির আত্নবিশ্বাস,কবিতাসমগ্র
কবিতাসমগ্র-২,পানকৌড়ির রক্ত,সৌরভের কাছে পরাজিত,গন্ধ বণিক,ময়ূরীর মুখ,না কোন শূন্যতা মানি না
নদীর ভেতরের নদী,পাখির কাছে , ফুলের কাছে
প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা,প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা,প্রেমের কবিতা সমগ্র,উপমহাদেশ
বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ,উপন্যাস সমগ্র-১,উপন্যাস সমগ্র-২,উপন্যাস সমগ্র-৩,তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে (২০১৫)[১২],ছায়ায় ঢাকা মায়ার পাহাড় (রূপকথা)
ত্রিশেরা,উড়াল কাব্য ইত্যাদি।
Discussion about this post